সবজির চারা উৎপাদনে কোন ধরনের ট্রে ব্যবহার করবেন

আধুনিক জীবন যাত্রার সাথে সাথে কৃষিরও আধুনিকায়নের ছোয়া আজ গ্রাম থেকে শহরে। এখনকার দিনে শুধু গ্রামের কৃষকদের আদর্শ কৃষক বললে খানিকটা ভূল হবে, শহরের মানুষেরা আজ আদর্শ কৃষক হয়ে ওঠছে। কেননা এখন শহরেও আর পতিত জমি নেই। আর বড় বড় বিল্ডিং গুলোও যেন এক একটি বাগানে পরিনিত হচ্ছে। পারিবারিক খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ছাদবাগান এখন আয়েরও উৎস হিসাবে সাহায্য করছে। আর এই সল্প পরিসরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফল, ফুল ও সব্জি উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসকল প্রযুক্তির মধ্যে সবজি চারা উৎপাদনে ব্যবহিত ট্রে ও কোকোপিট একটি। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে সবজির চারা উৎপাদনে কোন ধরনের ট্রে ব্যবহার করবেন। আজ সবজির চারা উৎপাদনে বিভিন্ন ট্রে নিয়ে আলোচনা করব-

চারা উৎপাদনে কেন ট্রে ব্যবহার করবেন

আমরা যারা ছাদ বাগান বা অল্প পরিসরে চাষাদাদ করি তাদের সঠিক মানের চার ন্যায্য মূল্যে পেতে বেশ কষ্ট হয়। আবার বড় পরিসরে চাষাবাদ করতে গেলেও গুনগত মান সম্পূর্ন চারা পাওয়া কষ্টসাধ্য।

তাই প্লাষ্টিকের সিডলিং ট্রেতে কোকোপিট পদ্ধতিতে চাহিদা অনুযায়ী সুস্থ্য সবল ও যেকোন পরিমানের চারা উৎপাদন সম্ভব খুব সহজেই। ট্রেতে চারা উৎপাদনের সুবিধা গুলে হল-

  • সুস্থ্য সবল ও রোগমুক্ত চারা পাওয়া যায়
  • শিকড় ছিড়ে যায় না তাই রোপনের সাথে সাথেই দৈহিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে 
  • প্রাকৃতিক দূর্যোগেও চারা তৈরী করা যায় সহজেই
  • মাটির চারার থেকে ১২-১৫ দিন আগাম ফলন পাওয়া যায়
  • চারার আলাদা আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া যায়
  • একসাথে যেকোন পরিমান চারা উৎপাদন করা যায়
  • একই ট্রেতে অনেকবার চারা তৈরী করা যায়

সিডলিং ট্রে এ প্রকারভেদ

আমাদের দেশে ট্রেতে চারা উৎপাদন ব্যবস্থা বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক তরুন উদ্যোক্তারা কৃষকের মাঝে সঠিক মানের চারা পৌছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে রংপুরের নাশিক প্লান্ট এন্ড পট, বগুড়ার কৃষিবন্ধু এগ্রো সার্ভিসেস, ম্যাক্সিম এগ্রো ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে কোকোপিটের সাহায্যে উৎপাদিত চারা সারাদেশে সরবরাহ করছে। আমাদের দেশে যে সকল ট্রে পাওয়া যায় তা হল চায়না থেকে আমদানিকৃত ট্রে, ইন্ডিয়ান ও বাংলাদেশি।

চায়না সিডলিং ট্রেঃ

সিডলিং ট্রে

  • এটি বেশ শক্ত ও মজবুত
  • ওজন ১৫৫ গ্রাম
  • সেল সংখ্যা – ৭২, ১০৫, ১২৮, ২০০২৮৮
  • ব্যাবহারের সময়সিমা – ৭-৮ বার ব্যবহার করা যায়
  • সেলের ধরন – স্কয়ার
  • রং- কালো

চায়না ট্রের দাম দেখুন

 ইন্ডিয়ান সিডলিং ট্রেঃ
  • এটি বেশ হালকা
  • ওজন ১১০ গ্রাম ও ৮৫ গ্রাম
  • সেল সংখ্যা – ৫০ ও ১০৪
  • ব্যাবহারের সময়সিমাঃ ৩-৪ বার ব্যবহার করা যায়
  • সেলের ধরন – গোলাকার
  • রং- কালো

ইন্ডিয়ান ট্রের দাম দেখুন

বাংলাদেশি সিডলিং ট্রেঃ
    • এটিও বেশ হালকা
    • ওজন ১১৫ গ্রাম
    • সেল সংখ্যা – ১০৪
    • ব্যাবহারের সময়সিমাঃ ৪-৬ বার ব্যবহার করা যায়
    • সেলের ধরন – গোলাকার
    • রং- কালো

বাংলাদেশি ট্রের দাম দেখুন

কোন সবজির চারা উৎপাদনে কোন ধরনের ট্রে ব্যবহার করবেন

আমাদের চারার শিকড় অনুযায়ী ট্রের সেল সাইজ নির্ধারন করতে হবে। সাধারনত ৫০ সেলের ট্রের সেল সাইজ অনেকটা বড় আবার ২৮৮ সেলের ট্রের সেল সাইজ একেবারে ছোট। আর আমরা যদি চারার শিকড়ের সাইজ অনুযায়ী ট্রে না নির্ধারন করি তবে কাঙ্খিত চারা পাওয়া যাবে না। সবজি গাছের ধরন অনুযায়ী যে ট্রে নির্ধারন করবেন-

  • ৫০ সেলঃ পেঁপে, শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, স্কোয়াস, ক্যাপসিকাম
  • ৭২ সেলঃ পেঁপে, শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, স্কোয়াস, কঁরলা, চিচিংগা, তরমুজ, শিম, ক্যাপসিকাম
  • ১০৪ বা ১০৫ঃ টমেটো, বেগুন, বাঁধা কপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, শিম, ক্যাপসিকাম
  • ১২৮ সেলঃ টমেটো, বাঁধা কপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, ক্যাপসিকাম, লেটুস
  • ২০০ সেলঃ বাঁধা কপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, মরিচ
  • ২৮৮ সেলঃ মরিচ, পেঁয়াজ

যারা সল্প পরিসরে কোকোপিটে চারা উৎপাদন করতে চান তাদের জন্য মাঝামাঝি সেলের ট্রে নেওয়াই উত্তম। কেননা এটিতে আপনি মোটামুটি সবধরনের চারা দিতে পারবেন। আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য চায়না ট্রে কিনতে পারেন।

 

 লেখক পরিচিতিঃ

কৃষিবিদ মোঃ রুবেল হোসাইন

কো-ফাউন্ডার, কৃষিবন্ধু এগ্রো সার্ভিসেস

3 thoughts on “সবজির চারা উৎপাদনে কোন ধরনের ট্রে ব্যবহার করবেন”

Leave a Comment

Your email address will not be published.